এত ছোট গ্রামের তুলনায় কাসোলে খাওয়াদাওয়া আশ্চর্য রকমের ভালো। কয়েক দশক ধরে ইজরায়েলি, ইউরোপীয় ও ভারতীয় ব্যাকপ্যাকারদের আনাগোনায় এখানকার মেনু হুমুস-শ্নিৎজেল থেকে কাঠের উনুনের পিৎজা আর ব্যানানা প্যানকেক পর্যন্ত ছড়ানো, পাশাপাশি কুলু পাহাড় আর তিব্বতি মালভূমির খাবার। ক্যাফেই উপত্যকার সামাজিক জীবনের আসর: জুতো খুলে কুশনে বসুন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা থেকে যান।
কী অর্ডার করবেন
| পদ | কী জিনিস | কোথায় পাবেন |
|---|---|---|
| শাকশুকা | মশলাদার টমেটোর ঝোলে পোচ করা ডিম, রুটি-সহ | কাসোল, চালাল ও তোশের ইজরায়েলি ধাঁচের ক্যাফে |
| হুমুস, ফালাফেল ও পিটা | কাবুলি ছোলার ডিপ, ভাজা ছোলার বড়া আর চ্যাপ্টা রুটি, প্রায়ই প্ল্যাটার হিসেবে | কাসোলের বেশির ভাগ ক্যাফে |
| সাবিখ ও শ্নিৎজেল | বেগুন-ডিমের পিটা; ব্রেডক্রাম্বে মোড়া ভাজা মুরগি | ইজরায়েলি মেনু |
| সিড্ডু | পোস্ত, আখরোট বা ডালের পুর-ভরা ভাপানো গমের রুটি, ঘি দিয়ে খাওয়া হয় | হিমাচলি স্টল ও হোমস্টে |
| ট্রাউট | নদীর ট্রাউট, ভাজা বা গ্রিল করা | কাসোল ও উপত্যকা জুড়ে রেস্তোরাঁ |
| কুলু ধাম | ভাত, ডাল, রাজমা ও মিষ্টি ভাতের উৎসবের ভোজ | বিয়ে, উৎসব আর কয়েকটি স্থানীয় রেস্তোরাঁ |
| মোমো ও থুকপা | ভাপানো পুলি; নুডল স্যুপ | তিব্বতিদের চালানো ক্যাফে ও রাস্তার স্টল |
| লঙ্গর | ডাল, ভাত ও রুটির বিনামূল্যের নিরামিষ আহার | গুরুদ্বার মণিকরণ সাহিব |
ইজরায়েলি হেঁশেল
কাসোলের ডাকনাম “মিনি ইজরায়েল” সার্থক হয় ব্রেকফাস্টে। এখানে ইজরায়েলি ব্রেকফাস্ট মানে ডিম, কুচোনো স্যালাড, হুমুস, লাবনে, রুটি আর চা বা কফি — সন্ধে পর্যন্ত চালিয়ে দেবে। শাকশুকা আসে প্যানে টগবগ করতে করতে। মেনু প্রায়ই ইংরেজির পাশাপাশি হিব্রুতেও ছাপা। কোশার মানলে খাবাদ হাউসে জিজ্ঞেস করুন, মরসুমে কী পাওয়া যায়।
হিমাচলি খাবার
ক্যাফের মেনু ছাড়িয়ে পাহাড়ের খাবার খুঁজুন। চেখে দেখার পদ সিড্ডু: নোনতা বা মিষ্টি পুর-ভরা মোটা ভাপানো রুটি, চিরে ঘিয়ে ভিজিয়ে খাওয়া। কুলুর ঠান্ডা নদীর ট্রাউট পরিবেশন হয় সাদামাটাভাবে, ভাজা বা গ্রিল করে। হোমস্টেতে খাবেন রাজমা, ভাত, মরসুমি শাক, মোটা রুটি আর ঘরে বানানো আচার। কুলুর উৎসবের ধাম পাওয়া কঠিন, তবে খোঁজ করার মতো।
তিব্বতি খাবার ও স্ট্রিট ফুড
ঝাল চাটনি-সহ ভাপানো বা ভাজা মোমো বিকেলের মাঝামাঝি থেকে মূল রাস্তায় বিক্রি হয়; ঠান্ডা সন্ধ্যার জিনিস থুকপা। মণিকরণে লঙ্গরের পর বাজারে গরম জিলিপি চেখে দেখুন।
বেকারি ও কফি
“জার্মান বেকারি” হিমালয়ের ব্যাকপ্যাকার-পথের চিরচেনা অঙ্গ, কাসোলেও কয়েকটি আছে — বিক্রি হয় সিনামন রোল, অ্যাপল ক্রাম্বল, চকোলেট বল আর ব্রাউন ব্রেড। আসল এসপ্রেসো পাওয়া ক্রমেই সহজ হচ্ছে; তবে উপত্যকার চিরকালের পানীয় এক পট আদা-লেবু-মধুর চা।
পরিচিত নাম
পর্যটকরা বছরের পর বছর যে পুরোনো ক্যাফেগুলোর সুপারিশ করে আসছেন, তাদের মধ্যে আছে কাসোলের Evergreen, Moon Dance, Jim Morrison Café, Little Italy, Bhoj ও Buddha Place। এখানে ক্যাফের মালিক, রাঁধুনি আর মান মরসুমে মরসুমে বদলায়, তাই যে কোনো তালিকাকে — এটিকেও — শুরুর সূত্র হিসেবে ধরুন, আর সাম্প্রতিক রিভিউ দেখুন বা সোজা ভিড় যেদিকে সেদিকে যান।
মণিকরণের লঙ্গর
গুরুদ্বার মণিকরণ সাহিবের বিনামূল্যের রান্নাঘর প্রত্যেক দর্শনার্থীকে খাওয়ায়, ধর্ম যা-ই হোক। এটা পর্যটন-আকর্ষণ নয়, সেবার কাজ: মাথা ঢাকুন, সারিতে বসুন, যা দেওয়া হয় খান আর থালা পরিষ্কার করে উঠুন। দান স্বাগত, তবে কখনো চাওয়া হয় না।
উচ্চ উপত্যকায় খাওয়া
তোশে ছাদওয়ালা ক্যাফের পুরো সম্ভার আছে। কালগা, পুলগা ও তুলগায় মূলত যেখানে শোবেন সেখানেই খাবেন, খাবার সাদামাটা ও ঘরোয়া। ক্ষীরগঙ্গার পথে মরসুমি চা ও নুডলের স্টল থাকে; উচ্চতার সঙ্গে দামও চড়ে, কারণ সব কিছু বয়ে তুলতে হয়।
কাজের টিপস
- জল: ফিল্টার-করা বা ফোটানো জল খান। প্লাস্টিক না কিনে ক্যাফেতে বোতল ভরে নিন।
- পরিচ্ছন্নতা: ভিড়ের জায়গা, যেখানে খাবার তাড়াতাড়ি ফুরোয়, সবচেয়ে নিরাপদ। বর্ষায় স্যালাড ও কাঁচা খাবারে সাবধান।
- পরিবেশন ধীর। এক-দুজন মানুষ অর্ডার পেয়ে তবে রাঁধেন। খিদে পাওয়ার আগেই অর্ডার দিন।
- নিরামিষ ও ভিগান: সহজ। বেশির ভাগ মেনু মূলত নিরামিষ; ভিগান খাবারের জন্য স্পষ্ট বলুন “ডিম নয়, দুগ্ধজাত নয়”।
- মদ: লাইসেন্সধারী দোকান ও কিছু রেস্তোরাঁয় বিক্রি হয়। মণিকরণের গুরুদ্বারে বা গ্রাহনের মতো যে গ্রামগুলো বারণ করে, সেখানে নিয়ে যাবেন না।
- দাম মেটানো: নগদ রাখুন। কাসোলে UPI চালু, তবে নেটওয়ার্ক ভরসাযোগ্য নয়।
- “স্পেশাল” জিনিস: গাঁজা-মেশানো খাবার বা পানীয় বেআইনি, আর তার জোর কতটা তা অজানা। ফিরিয়ে দিন।

