পার্বতী এক হিমবাহ-জাত নদী; পিন পার্বতী পাসের নিচে জন্ম নিয়ে প্রায় ৯০ কিমি পশ্চিমে বয়ে হিমাচল প্রদেশের কুলু জেলার ভুন্তরে বিয়াসে মেশে। তার উপত্যকা খাড়া, পাইন ও দেওদারের ঘন বনে ঢাকা, আর জায়গায় জায়গায় উষ্ণ প্রস্রবণ। প্রায় ১,৫৮০ মিটারের কাসোল পর্যটকদের প্রধান ঘাঁটি।
এক ব্যাকপ্যাকার গ্রামের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস
উপত্যকার পুরোনো জীবন আছে তার পাহাড়ি গ্রামগুলোয় — মালানা, রাসোল, গ্রাহন, তোশ, পুলগা — প্রতিটির নিজস্ব দেবতা ও মন্দির, আর শতাব্দীপ্রাচীন তীর্থকেন্দ্র মণিকরণে। ১৯৭০ ও ৮০-র দশকে বিদেশি ব্যাকপ্যাকাররা আসতে শুরু করার আগে কাসোল ছিল মণিকরণের পথের ধারের ছোট এক জনপদ মাত্র। ১৯৯০-এর দশক থেকে এটি সামরিক পরিষেবার পর বেড়াতে বেরোনো তরুণ ইজরায়েলিদের প্রিয় জায়গা হয়ে ওঠে; তাই এখানে হিব্রু সাইনবোর্ড, খাবাদ হাউস আর ইজরায়েলি খাবার পাবেন।
২০১০-এর দশক থেকে সবচেয়ে দ্রুত বেড়েছে দেশীয় পর্যটন। লম্বা সপ্তাহান্তে দিল্লি, চণ্ডীগড় ও পাঞ্জাবের পর্যটকে গ্রাম ভরে যায়, আর মণিকরণের দিকের রাস্তা বরাবর হোটেল ছড়িয়েছে। মানুষ যে শান্ত উপত্যকার খোঁজে আসে, সেটা এখনও আছে — শুধু খুঁজে পেতে মিনিট কুড়ি হাঁটতে হয়।
যে জায়গাগুলো বাদ দেওয়া চলবে না
কাসোল ও আশপাশ
কাসোল ও আশপাশ
কাসোল ও আশপাশ
উচ্চ পার্বতী উপত্যকা তোশ
রাস্তার শেষ প্রান্তের গ্রাম
তোশ নালা আর পার্বতীর সঙ্গমের ওপরে প্রায় ২,৪০০ মিটারে বসা তোশ থেকে পাহাড়ের যে চওড়া দৃশ্য মেলে, উপত্যকার গাড়িতে পৌঁছনো যায় এমন আর কোনো গ্রাম থেকে তা মেলে না। রোদ-মাখা ছাদওয়ালা গেস্টহাউস, জলপ্রপাত পর্যন্ত হাঁটা আর শীতে বরফ — কাসোলের পর এটাই চিরচেনা পরের গন্তব্য।
চালাল, রাসোল, গ্রাহন, পুলগা ও কালগা আর উঁচু ট্রেকগুলোর জন্য জায়গার পুরো তালিকা দেখুন।
স্থানীয় সংস্কৃতি ও রীতিনীতি
- গ্রাম-দেবতা: প্রতিটি গ্রামের একজন দেবতা আছেন, যাঁর মন্দির সমাজজীবনের কেন্দ্র। অনেক গ্রামে — সবচেয়ে কড়াকড়ি মালানায়, তবে তোশ, রাসোল ও অন্যত্রও — বহিরাগতদের মন্দিরে ঢোকা বা ছোঁয়া বারণ। সাইনবোর্ড খুঁজুন আর জিজ্ঞেস করুন।
- মণিকরণ: গুরুদ্বারে মাথা ঢাকুন ও জুতো খুলুন; চত্বরে তামাক বা মদ নয়।
- ছবি: মানুষের, বিশেষ করে মহিলা ও শিশুদের ছবি তোলার আগে জিজ্ঞেস করুন, আর দেবস্থানের ভেতরে ছবি তুলবেন না।
- পোশাক: কাসোলে ক্যাজুয়াল চলে; গ্রামে ও ধর্মীয় জায়গায় আরও শালীন পোশাক পরুন।
- ভাষা: হিন্দি আর স্থানীয় কুল্লভি উপভাষা; কাসোলে ইংরেজি ভালোই বোঝে, আর প্রচুর হিব্রু ও পাঞ্জাবি শুনবেন।
- সম্ভাষণ: “নমস্তে” সর্বত্র চলে; গুরুদ্বারে “সৎ শ্রী অকাল”।
টাকা, ফোন ও কাজের কথা
- নগদ: কাসোল ও মণিকরণে কয়েকটি এটিএম আছে, প্রায়ই খালি হয়ে যায়। ভুন্তর বা কুলুতে টাকা তুলুন। মণিকরণের পরে আর কিছু নেই।
- ডিজিটাল পেমেন্ট: কাসোলের অনেক ক্যাফে ও দোকান UPI নেয়, তবে নেটওয়ার্ক গেলে সেটাও যায়। বিদেশি কার্ড কদাচিৎ চলে।
- মোবাইল সিগন্যাল: কাসোল ও মণিকরণে চলনসই; তোশ, কালগা ও পুলগায় দুর্বল; ক্ষীরগঙ্গার পথে প্রায় নেই।
- বিদ্যুৎ: খারাপ আবহাওয়ায় বিদ্যুৎ চলে যাওয়া সাধারণ ব্যাপার। পাওয়ার ব্যাংক আর টর্চ রাখুন।
- চিকিৎসা: কাসোল ও মণিকরণে সাধারণ ক্লিনিক ও ওষুধের দোকান আছে; সবচেয়ে কাছের হাসপাতাল কুলুতে। নিয়মিত ওষুধ সঙ্গে আনুন।
- খরচ: উপত্যকায় পয়সা উশুল হয়। সাদামাটা ঘর আর ক্যাফের খাবার ভারতের পাহাড়ি শহরের মাপে সস্তা; লম্বা সপ্তাহান্তে আর মে–জুনে দাম হঠাৎ চড়ে। পুরোনো ব্লগের অঙ্কে ভরসা না করে এখনকার রেট দেখে নিন।
কী গোছাবেন
- সত্যিকারের গ্রিপওয়ালা জুতো — ট্রেল তো বটেই, গ্রামের পথও পাথুরে আর প্রায়ই ভিজে।
- সব ঋতুতেই সন্ধ্যার জন্য গরম জামা, আর নভেম্বর থেকে মার্চ পুরোদস্তুর শীতের পোশাক।
- বর্ষাতি (জুন থেকে সেপ্টেম্বর অপরিহার্য) আর ব্যাগের কভার।
- টর্চ বা হেডল্যাম্প, পাওয়ার ব্যাংক, ভরে নেওয়া যায় এমন জলের বোতল।
- উষ্ণ প্রস্রবণের জন্য স্নানের পোশাক ও ছোট তোয়ালে; গুরুদ্বারে মাথা ঢাকার ওড়না বা রুমাল।
- সানক্রিম ও সানগ্লাস — উচ্চতায় রোদ চড়া।
- ছবি-সহ পরিচয়পত্র। ভারতীয় নাগরিকদের হোটেলে চেক-ইনে লাগে; বিদেশি পর্যটকদের পাসপোর্ট ও ভিসা সঙ্গে রাখতেই হবে।
পারমিট ও নথিভুক্তি
কাসোল, মণিকরণ, তোশ বা গ্রামগুলোয় যেতে কোনো পারমিট লাগে না। ট্রেকের ক্ষেত্রে কুলু প্রশাসন নানা সময়ে নথিভুক্তি বাধ্যতামূলক করেছে, কিছু রুটে একা ট্রেকিংয়ে বিধিনিষেধ এনেছে বা বর্ষায় পথ বন্ধ রেখেছে। নিয়ম বদলায়; বেরোনোর আগে গেস্টহাউসে বা কোনো নথিভুক্ত ট্রেকিং এজেন্সিতে জিজ্ঞেস করুন। যাঁরা পিন পার্বতী পাস পেরিয়ে স্পিতিতে যান, তাঁরা অপারেটরের কাছে পারমিটের এখনকার নিয়ম জেনে নিন।
গাঁজা নিয়ে আইন
হাশিশের জন্য উপত্যকার খ্যাতি সবার জানা, তাই সোজাসুজি বলি। গাঁজার আঠা (চরস) ও অন্যান্য মাদক ভারতে নারকোটিক ড্রাগস অ্যান্ড সাইকোট্রপিক সাবস্ট্যান্সেস অ্যাক্ট অনুযায়ী বেআইনি। কাছে রাখলে গ্রেপ্তার ও জেল হতে পারে; কাসোলের রাস্তায় পুলিশের চেকপোস্ট আছে, আর বিদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রেও আলাদা কিছু নয়। এই সাইট মাদক সেবনে উৎসাহ দেয় না। উপত্যকায় যা আইনসম্মত ও অসাধারণ, তা-ই উপভোগ করুন।
দায়িত্ব নিয়ে ঘুরুন
- ট্রেল থেকে আর রাস্তাহীন গ্রাম থেকে নিজের আবর্জনা নামিয়ে আনুন। বর্জ্যই উপত্যকার সবচেয়ে চোখে-পড়া সমস্যা।
- প্লাস্টিক না কিনে বোতল ভরে নিন; অনেক ক্যাফে বিনামূল্যে বা সামান্য খরচে ভরে দেয়।
- রাতে আওয়াজ কম রাখুন। এখানে মানুষ বাস করে, আর ভোরে ওঠে।
- বনে আগুন জ্বালাবেন না, আর নদীর পাড় যেমন পেয়েছেন তেমনই রেখে যান।
- যেখানে পারেন স্থানীয় গাইড নিন আর পরিবার-চালিত হোমস্টেতে থাকুন।
কিছু বুক করতে চান? কাসোলের আসল ট্যুরগুলো তুলনা করুন বা দেখুন কোথায় থাকবেন।

