মালানা প্রায় ২,৬৫০ মিটারে, পার্বতীর এক পাশের উপত্যকার নির্জন মালভূমিতে, চন্দ্রখানি ও দেও টিব্বা পর্বতশ্রেণির নিচে। শতাব্দীর পর শতাব্দী প্রতিবেশীদের থেকে বিচ্ছিন্ন থেকে এ গ্রাম গড়ে তুলেছে নিজের উপভাষা, কানাশি, আর দেবতা জমলুর কর্তৃত্বে নিজস্ব গ্রাম-শাসন ব্যবস্থা।
গ্রামবাসীরা বহিরাগতদের আচারগতভাবে অশুচি মনে করেন। পর্যটকরা গ্রামের ভেতরের চিহ্নিত পথ ধরে হাঁটতে পারেন, কিন্তু মানুষ, তাঁদের বাড়ি, মন্দির বা পবিত্র পাথর ছোঁয়া চলবে না। সাইনবোর্ডে নিয়ম আর জরিমানা লেখা আছে। একটি চালু গল্প বলে, মালানার মানুষ আলেকজান্ডারের সৈন্যদের বংশধর; এটা কিংবদন্তি, প্রতিষ্ঠিত ইতিহাস নয়।
মালানা-এ কী করবেন
গ্রামের ভেতর দিয়ে হাঁটুন — সাবধানে
গ্রামের নিচের ও ওপরের অংশের মধ্য দিয়ে পাথর-বাঁধানো পথ ধরে চলুন। হাত নিজের কাছে রাখুন, দেওয়াল ও সিঁড়িতে উঠবেন না, আর গ্রামবাসীদের যেতে দিতে সরে দাঁড়ান। কিছু কিনলে টাকা হাতে না দিয়ে নামিয়ে রাখুন, আর দোকানদার যেমন বলেন তেমন করুন।
পথ থেকেই মন্দির দেখুন
জমলু মন্দির আর গ্রামের অন্য দেবস্থানগুলো কুলুর কাঠখোদাইয়ের সুন্দর নিদর্শন, তাতে ঝোলানো শিং আর নৈবেদ্য। শুধু পথ থেকেই দেখুন। ভবনের ছবি তোলার আগে জিজ্ঞেস করুন, আর স্পষ্ট অনুমতি ছাড়া মানুষের ছবি তুলবেন না।
গ্রাম পরিষদকে বুঝুন
মালানা তার প্রাচীন স্বশাসন ব্যবস্থার জন্য পরিচিত — উচ্চ ও নিম্ন দুটি পরিষদ জমলুর নামে বিবাদ মেটায়। একে প্রায়ই বিশ্বের প্রাচীনতম গণতন্ত্রগুলোর একটি বলা হয় — গর্বের এক স্থানীয় দাবি, গাইডের মুখে শোনার মতো।
হেঁটে ঢোকার পথ
রাস্তার শেষ থেকে পথ মালানা নালায় নেমে আবার খাড়া উঠে গ্রামে পৌঁছয়, একদিকে প্রায় ১–১.৫ ঘণ্টা। গিরিখাত আর জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের উপত্যকার দৃশ্যও এই অভিজ্ঞতার অংশ।

মালানা কীভাবে যাবেন
- সড়কপথে: ভুন্তর–কাসোল রাস্তার জরি থেকে এক পাশের রাস্তা উঠে গেছে মালানার রোড-হেড পর্যন্ত (জরি থেকে মোটামুটি ২০ কিমি)। নিয়মিত বাস নেই; জরি বা কাসোল থেকে ট্যাক্সি ভাড়া করুন আর অপেক্ষার সময় ঠিক করে নিন।
- হেঁটে: রোড-হেড থেকে প্রায় ১–১.৫ ঘণ্টার খাড়া হাঁটা। ভালো জুতো পরুন।
- রাস্তার অবস্থা: সাম্প্রতিক বর্ষাগুলোয় বন্যা ও মেঘভাঙা বৃষ্টিতে মালানার রাস্তা আর জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বেরোনোর আগে রাস্তা খোলা আছে কি না জেনে নিন।
- উঁচু পথ: চন্দ্রখানি পাস (নগ্গর থেকে) আর রাসোল পাস পেরোনো পুরোনো পথগুলো পুরো দিনের ট্রেক, কেবল গাইড-সহ দলের জন্য।
স্থানীয় টিপস
- দেওয়াল, মন্দির বা কোনো মানুষকে ছুঁলে সঙ্গে সঙ্গে জরিমানা হতে পারে। সাইনবোর্ড হুবহু মেনে চলুন, কোনো ঝামেলা হবে না।
- বহিরাগতদের সাধারণত গ্রামের ভেতরে রাত কাটাতে দেওয়া হয় না; গেস্টহাউসগুলো গ্রামের সীমানার বাইরে। এখনকার অবস্থা স্থানীয়ভাবে জেনে নিন।
- মালানার নাম গাঁজার সঙ্গে জড়িয়ে আছে। ভারতে এর চাষ, কেনা বা বহন ফৌজদারি অপরাধ, আর নামার পথে পুলিশ গাড়ি তল্লাশি করে।
- রীতিনীতি জানা স্থানীয় গাইড নিয়ে যান — তাতে আপনার আর গ্রামের, দু-পক্ষেরই সুবিধা।
- জল আর হালকা খাবার নিন; খাবারের খুব বেশি বাছাই আশা করবেন না।
মালানা সহ ট্যুর
এই গাইডেড ট্রিপগুলো মালানা ঘুরিয়ে দেখায় বা সহজেই এর সঙ্গে জুড়ে নেওয়া যায়:
প্রাইভেট বহু-দিনের ট্রেক কাসোল–কুলু এস্কেপ: স্থানীয় ছোঁয়ায় ৬ দিনের ব্যাকপ্যাকার ট্রেক
যাঁরা ক্ষীরগঙ্গায় এক রাতের চেয়ে বেশি হাঁটতে চান, তাঁদের জন্য দীর্ঘ ও ধীর এক বিকল্প: কাসোল ও কুলু অঞ্চল ঘিরে ছয় দিনের পথ, নদীতীরের ক্যাম্প আর স্থানীয় সংস্কৃতি, খাবার-সহ প্রাইভেট দল হিসেবে। বুক করার আগে GetYourGuide-এ দিনওয়ারি রুট দেখে নিন, কারণ সঠিক সূচি ঠিক করেন অপারেটর।
- কুলু অঞ্চলের পথে ছয় দিন, পাঁচ রাত
- নদীর ধারে ক্যাম্প আর স্থানীয় আতিথেয়তায় সময়
- খাবার অন্তর্ভুক্ত, পিকআপের সুবিধা
প্রাইভেট ডে ট্রিপ মানালি থেকে কাসোল ও মণিকরণ সারাদিনের সাইটসিয়িং ট্যুর
মানালিতে থাকছেন আর হাতে মাত্র একটা দিন? গাড়ি ও চালক-সহ এই প্রাইভেট সফরে পার্বতী উপত্যকার দুটি অপরিহার্য জায়গা দেখা হয়ে যায়: ফুটন্ত প্রস্রবণের তীর্থশহর মণিকরণ আর কাসোলের নদীতীরের ক্যাফে। পিকআপের সুবিধা আছে, আর গতি ঠিক করবেন আপনিই।
- কুলু উপত্যকা ধরে নেমে পার্বতীর গিরিখাত বেয়ে ওঠার পথ
- গুরুদ্বার মণিকরণ সাহিব, লঙ্গর ও উষ্ণ প্রস্রবণ
- কাসোলে দুপুরের খাওয়া আর নদীর ধারে হাঁটার অবসর



